Banner
মুসলমানদের মানসিকতা বুঝতে হলে -- আমিল ইমানী

লিখেছেনঃ আমিল ইমানী, আপডেটঃ October 1, 2010, 3:37 AM, Hits: 39943

ইসলাম এবং পাশ্চাত্যের মধ্যকার বর্তমান বিপজ্জনক সংঘাত নিরসন করতে হলে যুক্তিগ্রাহ্য ও নিরপেক্ষ ভাবে ঠাণ্ডামাথায় গালগল্প থেকে প্রকৃত তথ্যকে আলাদা করতে হবে, মুসলমানদের মানসিকতা বুঝতে হবে এবং উভয় পক্ষের যে কোন অভিযোগ থাকলে সেগুলো মিটাতে হবে।

মুসলমানদের প্রধান অভিযোগ হচ্ছে, পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীরা, অতীতের সকল ঔপনিবেশিক শক্তি এবং সেই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তাদেরকে দশকের পর দশক এমনকি শতাব্দীর পর শতাব্দী শোষণ-নির্যাতন করেছে। সকল দিক থেকে সেই একই ধারা এখনো চলছে। পাশ্চাত্য কর্তৃক কৃত অন্যায়ের অভিযোগের গান অনেকটা এনসাইক্লোপিডিয়া ভিত্তিক। পশ্চিমা শক্তিগুলো ইসলামী জাহানের বিরাট অংশকে ভেঙ্গে টুকরো করে নানান রাষ্ট্রে বিভক্ত করে দিয়ে মুসলিম দেশগুলোর বৈধ অধিকারের প্রতি চরম অবজ্ঞা দেখিয়েছে। এদের সম্পদ লুট করে চলছে। তাদের অপরাধের শীর্ষে রয়েছে মুসলিম দেশগুলোর হৃৎপিণ্ড ভেদ করে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের পত্তন।

একটি প্রাচীন প্রবচন হচ্ছেঃ ‘‘বিশ্বাসযোগ্যভাবে মিথ্যার পর্বত তৈরী করার জন্য এক কণা সত্যই যথেষ্ট।’’ মুসলমানদের প্রতি সততা বজায় রাখতে গেলে স্বীকার করতেই হবে যে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে মুসলমানদের অভিযোগের মধ্যে কিছুটা হলেও সারবস্তু আছে। এখন মুসলমানদের সাধারণ মানসিকতার উপর আলোকপাত করা যাক। এই মানসিকতা পাশ্চাত্যের প্রতি চরম শত্রুভাবাপন্ন। এই শত্রুতা ভয়ঙ্কর সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

১। পিতৃতন্ত্র ও কর্তৃত্ববাদঃ কর্তৃত্ববাদ মুসলমানদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে। এর শুরু আল্লাহর সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের ধারণা থেকে। এই ধারা তার এক এবং একমাত্র নবী মুহাম্মদ, তার খলীফারা অথবা ইমামগণ এবং সম্মানিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব থেকে গ্রাম্য মোল্লা পর্যন্ত প্রবাহিত। এই কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা মুসলমানদের জীবনের সকল দিককে ঘিরে রেখেছে। যেমনঃ ইশ্বরের প্রতিনিধি হিসাবে রাজা এবং তার আধিপত্য, আমীর এবং তার যথাচ্ছাচারের ক্ষমতা, খান এবং তার গোত্রের উপর তার অপ্রতিরোধ্য শাসন, গ্রাম প্রধান এবং তার ব্যাপক ক্ষমতা, এবং সর্বশেষে পিতা এবং বাড়ীতে নারী ও সন্তানদের উপর তার বজ্রমুষ্ঠি। এইসব কর্তৃত্বকারী চরিত্র হচ্ছে পুরুষ।

কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা অসংখ্য সমস্যা ও জটিলতা সৃষ্টি করে। এখানে এসবের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ে বিশ্লেষণ করা হল। এটা উপলব্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ যে, কর্তৃত্ববাদী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন যে কোন মানুষ চরমপন্থী হয়। সে একাধারে বিশেষ পরিস্থিতিতে বিনয়ের অবতার সাজতে পারে, আবার ভিন্ন পরিস্থিতিতে হয়ে উঠতে পারে নিষ্ঠুর উন্মাদ ঘাতক। সে হচ্ছে এমন ধরনের লোক, যে নির্দেশিত হলে আনন্দের সঙ্গে বিস্ফোরক ভর্তি পোশাক পরবে এবং বিন্দুমাত্র ইতস্তত না করে নিরীহ মানুষের জটলার মাঝে তার বিস্ফোরণ ঘটাবে।

২। অন্ধ আনুগত্যঃ কর্তৃত্ববাদী ব্যক্তিত্বের বিপজ্জনক লক্ষণ হচ্ছে স্বাধীন চিন্তার তুলনামূলক ঘাটতি। এই ঘাটতির কারণে সে অতি সহজেই প্রভাবিত হয়। ইসলাম তার কঠোর কর্তৃত্ববাদী কাঠামো দ্বারা মুসলমানদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতাকে এমনভাবে হরণ করে যে, বিশ্বাসী মুসলমান ইসলামকে তার বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে অন্ধভাবে মেনে নেয়। তাই ধর্ম হিসাবে ইসলাম প্রচুর সংখ্যক মানুষকে কর্তৃত্বকারী ব্যক্তিগণ দ্বারা সহজে প্রভাবিত হওয়ার যন্ত্রে পরিণত করার অপরাধে অপরাধী।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, কর্তৃত্বপরায়ণ মানসিকতার মানুষ সব জাতির মধ্যে, এমনকি আমেরিকানদের মধ্যেও পাওয়া যায়।তবে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে এর মাত্রা এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যে। ইসলাম বিপুল সংখ্যক চরমপন্থী পয়দা করে, পক্ষান্তরে আমেরিকায় চরমপন্থীদের উপস্থিতি অনেক কম, তাদের উগ্রতাও কম।

৩। লক্ষ্য সম্পর্কে আলোকপাতঃ মুসলমানদের জন্য লক্ষ্য অর্জন হচ্ছে সবকিছু। ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ হিসাবে ইসলাম তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে কোন মাধ্যম ব্যবহার করে থাকে। ইসলামের চুড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে গোটা বিশ্বকে ইসলামী উম্মাহর অধীনে শাসন করা। অবশ্য উম্মাহ সম্পর্কে এবং কারা উম্মাহর শাসক হবে তা নিয়ে জীবন বাজী রাখা আল্লাহর সৈনিকদের মধ্যে তীব্র মত পার্থক্য রয়েছে। এটা তাদের ‘পারিবারিক বিরোধ’। এ বিরোধ তাদের প্রিয় পদ্ধতি নিষ্ঠুর শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই মিটানো হবে। প্রতিটি ইসলামী গোষ্ঠী বিশ্বাস করে যে নবী এবং আল্লাহ তাদের পক্ষে আছেন। তারাই অন্য গোষ্ঠীগুলোর উপর প্রভাব বিস্তার করবে। এখন তাদের কাজ হচ্ছে অবিশ্বাসীদের পরাজিত করে অন্তর্বর্তী লক্ষ্য অর্জন  করা। মুসলমানদের দিকনিদের্শক নীতি যে ‘লক্ষ্য অর্জনের মধ্য দিয়ে উপায়ের যৌক্তিকতা প্রতিষ্টিত হয়’­ এর অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। এই নীতি অনুসৃত হচ্ছে মুহাম্মদের আমল থেকে। মুহাম্মদ বারবার তার প্রতিপক্ষের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছেন। কিন্তু পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সে সব চুক্তি লংঘন করেছেন। বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা এবং চূড়ান্ত মিথ্যাকে পুরোপুরি ব্যবহার করা হয়েছে ইসলামের কাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য। বর্তমান দুনিয়ায় ইসলামের কার্যক্রম নির্ধারিত হয় প্রভাবশালী মোল্লাদের দ্বারা। তারা ফতোয়া দেয়, যা বিশ্বাসীদের জন্য নির্দেশ ও আইনে পরিণত হয়।

ইরানী ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা খোমেনী ফতোয়ার ব্যাপক ব্যবহার করেছেন। একটি বই লেখার জন্য সালমান রুশদীকে মৃতুøদণ্ড দিয়ে ঘোষিত তার ফতোয়া পাশ্চাত্যে ব্যাপকভাবে পরিচিত। বিগত ইরান-ইরাক যুদ্ধকালে দেওয়া খোমেনীর একটি কম পরিচিত ফতোয়া হাজার হাজার ইরানী শিশুর মৃতুø ঘটিয়েছিল। ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্লাস্টিকের একটা চাবি দিয়ে বলা হয় যে, এটা স্বর্গের চাবি; ফতোয়া দিয়ে তাদের মাইন ক্ষেত্র পরিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে তাদের পিছন পিছন ট্যাংকগুলো নিরাপদে চলতে পারে। রক্তপিপাসু এই আল্লাহর মানুষের ফতোয়া কার্যকর করার জন্য ইসলামী ঘাতকরা শিশুদের হাতে চীনে প্লাস্টিকের তৈরী স্বর্গের চাবি তুলে দিতে ইতস্তত করে নাই।

ইসলামের হুমকি এতটাই ভয়ঙ্কর। এটা একটা কঠোর প্রস্তর যুগীয় কর্তৃত্বপরায়ণ ব্যবস্থা যার নিয়ন্ত্রণে আছে প্রায় দেড়শ’ কোটি মানুষ।

৪। নিয়তিবাদঃ পশ্চিমা লোকজন এবং মুসলমানদের মানসিকতায় একটা  গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্ম পার্থক্য হচ্ছে মুসলমানরা অনেক বেশী নিয়তিবাদী। মুসলমানরা আল্লাহর ইচ্ছা  এই শর্ত ছাড়া কোন কথা বলে না। ‘আল্লাহ  চাইলে তোমার সঙ্গে কাল আমার দেখা হবে।’ ‘আল্লাহর ইচ্ছায় তুমি এটাকে বাড়ী হিসাবে ব্যবহার করতে পার।’ ‘আল্লাহর ইচ্ছা হলে কাজগুলো করা যাবে’ ইত্যাদি ইত্যাদি। মুসলমানদের ধারণা আল্লাহ সব কাজ করছেন। আল্লাহ তার বিশাল অদৃশ্য হস্ত দ্বারা দুনিয়ার সব কাজ করেন। ‘আল্লাহর হাত সবার হাতের উপরে অবস্থান করে।’ এটাই হচ্ছে সর্ব শক্তিমান হাতের উপর মুসলমানদের নিয়তি নির্ভরতা ও আনুগত্য। যদি কোন কিছু ঘটে, সেটা আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটছে। যদি কোন কিছু না ঘটে, আল্লাহ ইচ্ছা করেন নাই বলে ঘটে নাই। যেন মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ইচ্ছা বলে কিছু নাই। সকল দায়দায়িত্ব আল্লাহর উপর অর্পিত। এই মানসিকতা আমেরিকান এবং অন্যান্যদের ‘দায়িত্ব নাও’ এবং ‘পারা যাবে’ জাতীয় মানসিকতার একেবারে বিপরীতে।

৫। মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যঃ গোষ্ঠীগত অথবা ব্যক্তিগতভাবে মানুষের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে এবং কেউ মনস্তাত্ত্বিকভাবে শতভাগ সুস্থ নয়। জীবনের অমসৃণ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য আমাদের গাড়ী একেবারে নড়বড়ে। তারপরও অধিকাংশ মানুষ বেশীর ভাগ সময় সঠিক রাস্তায় চলতে পারে। সম্ভবত দু’-একবার মনোরোগ চিকিৎসকের মেরামত কারখানায় থামতে হয় মাত্র।

অধিকাংশ মানসিক জটিলতার উৎস হচ্ছে সাধারণভাবে স্বীকৃত রীতি ও মূল্যবোধ থেকে বিচুøতি, অথবা এ নিয়ে বাড়াবাড়ি কিংবা  ঘাটতি। এই রীতি যা-ই হোক না কেন। দৃষ্টান্ত স্বরূপ, যখন সতর্কতা সন্দেহকে ছাড়িয়ে যায় তখন আমরা মানসিক বৈকল্যের শিকার হই। যখন কোন যুক্তি ছাড়াই ভয়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয় তখন জন্ম নেয় আতঙ্ক। যে কোন পরিস্থিতির মাত্রাভেদ প্রায়ই মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি নির্ধারণ করে।

মুসলমানরা অভিন্ন ইসলামী মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবেশের বাসিন্দা। তারা ইসলামী ‘খাদ্য’ খায়। মুসলিম রাষ্ট্র বা অমুসলমান দেশ নির্বিশেষে তারা এটা করে। গোষ্ঠীগত বা ব্যক্তিগত ভাবে যে কোন মুসলমানের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা সরাসরি নির্ভর করে সে কী পরিমাণ ইসলামী খাদ্য খায় তার উপর। ইসলামী খাদ্যে নানান উপাদান আছে। এর কিছু পূর্ণাঙ্গ, আবার কিছু অত্যন্ত উত্তেজক, আর কিছু এ দুইয়ের মাঝামাঝি।

বছরের পর বছর ইসলামী নেতারা অনুভব করছেন যে তাদের নিজ স্বার্থ উদ্ধারের জন্য মুসলমানদের উত্তেজক খাদ্য খাওয়ানো দরকার। দৃষ্টান্ত স্বরূপ, বিশ্বাসীদের সমাবেশ ঘটানোর জন্য ঘৃণার জারক রস ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। এটা গোষ্ঠীর মধ্যে সংহতি জোরদার করে। এবং তাদের সত্যিকার ও কাল্পনিক দুর্ভাগ্যের জন্য অপরকে দোষারোপ করা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত কার্যকর। শুরু থেকে ইহুদীরা হচ্ছে তাদের প্রিয় বলির পাঁঠা। আজকের দিনেও নাৎসীদের মত সত্যিকার ফ্যাসিস্ট্‌ হিসাবে মুসলমানরা সবকিছুর জন্য ইহুদীদেরকে দায়ী করে।

মুসলমানদের মনস্তাত্ত্বিক প্রোফাইলের একটা বিস্তারিত ইনভেন্টরী করার সুযোগ এ নিবন্ধে নাই। অব্যশ্য প্রশ্নাতীতভাবে মুসলমানদের মানসিক গড়ন অমুসলমানদের চেয়ে আলাদা। এই পার্থক্য প্রায়ই দৃশ্যমান হয়, যেমন এখন হচ্ছে। এটাই ইসলাম এবং পাশ্চাত্যের সংঘাতের মূল ব্যাপার।

উপসংহারঃ স্বীকার করতেই হবে যে, ইসলাম বহির্ভূত সংস্কৃতি সকল রোগের মহৌষধ নয়। তবে  এর  এমন একটা বৈশিষ্ট্য আছে যা ইসলামী সংস্কৃতিতে নাই। সেটা হচ্ছে স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতার  অনুষঙ্গ  ভাল, মন্দ, উদাসীন যেমন হোক যে একবার স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে তাকে কোন কিছুর বিনিময়ে এ থেকে সরিয়ে আনা যাবে না। বিশেষ করে ইসলামপন্থীদের  গালগল্পমূলক প্রতিশ্রুতি এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হতে বাধ্য, যা অতীতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হতে বাধ্য।

কঠিন হলেও এই সংঘাতের সর্বোত্তম সমাধান হচ্ছে লাখ লাখ  মুসলমান ইতিমধ্যে যা করেছে সেটা অনুসরণ করা। তার দাস প্রথার ধারক ইসলামকে পরিত্যাগ করেছে। তারা শোষণকারী মোল্লাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। কুরআন ও হাদীসের বৈষম্যমূলক উদ্ভট   শিক্ষা ঝেড়ে ফেলেছে। জীবনদায়ী স্বাধীনতার স্বর্গ পাওয়ার জন্য ইসলামের শ্বাসরুদ্ধকর তাঁবু ছেড়ে বেড়িয়ে এসেছে।

স্বাধীনতার মুক্তিকামী ও সমন্বয়সাধক স্বর্গের  মধ্যে থেকে যারা মুসলমান থাকতে  ইচ্ছুক, তারা ইসলামের ভাল শিক্ষাগুলো ধারণ ও অনুশীলন করতে পারে। কিন্তু তাদের অসহিংষ্ণুতা, ঘৃণা ও সহিংসতা পরিত্যাগ করতে হবে। দাসত্বের অবমাননাকর গহ্বর থেকে মুক্তির পর্বতে উঠে আসার জন্য প্রচুর চেষ্টা ও সাহসের প্রয়োজন। তারপরও এটা সম্ভব এবং এ কাজ উল্লাসজনক। কারণ অনেকেই তা সফলভাবে এবং আনন্দের সঙ্গে করতে সফল হয়েছেন। যত বেশী মানুষ ধর্মীয় দাসত্বের শিকল পরিত্যাগ করবে, ততই আরও বেশী মানুষ তাদের অনুসরণ করবে। ইসলামের শিকার হয়ে মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তারা মুক্ত মানুষে পরিণত হবে এবং স্বাধীন মানুষ হিসাবে নিজেদের জীবন ও ভাগ্যের দায়িত্ব নিবে। মানব জাতির স্বাধীন সদস্যদের সঙ্গে নিগড়বদ্ধদের পথ চলা বেদনাদায়ক।

মনের দাসত্ব শরীরের দাসত্বের মতই অশুভ। ইসলাম নামের ফ্যাসিবাদ উভয় দাসত্বের জন্য দায়ী।

(নিবন্ধটি Amil Imani-এর Understanding the Muslim Mindset-এর  বাংলা অনুবাদ। ইংরাজী নিবন্ধটি ইসলাম ওয়াচ (www.islam-watch.org)-এ ২০ জুন, ২০১০ তারিখে প্রকাশিত হয়। -- বঙ্গরাষ্ট্র, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১০)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
Archive
 
সাম্প্রতিক পোষ্টসমূহ