Banner
কল্পনায় অথবা বাস্তবে – শামসুজ্জোহা মানিক (কবিতা)

লিখেছেনঃ শামসুজ্জোহা মানিক, আপডেটঃ April 30, 2009, 6:00 PM, Hits: 3440

কল্পনায় অথবা বাস্তবে – শামসুজ্জোহা মানিক (কবিতা)
 
জীবনের নদী শুকিয়ে গিয়েছে জেনে
একদিন মরা খাত দেখেছিলাম বুকের ভিতর।
দেখেছিলাম কতকাল বালুচরে রোদের আগুন
তবে কেন আজ সেইখানে এসেছে জলের প্লাবন?
জলস্রোত বয়ে যায় গর্জন করে, বালুচর ভেসে যায়
নদীতে জেগেছে প্রাণ বহুকাল পরে।
 
এমনো কি হয়? কোনোদিন প্রত্যাশা ছিল কি তবে?
আশা ফুরালেও বুঝি কিছু থাকে। শুধু সেইটুকু,
শুধু ক্ষীণ রেখাটুকু বুঝি ছিল কোনোখানে,
বুকের গভীর গোপনে কিছু আলো ছিল বুঝি তবে?
সেই আলো উজ্জ্বল হয়ে সূর্যের মত জ্বলতে কি চায়?
অথবা কুয়াশাকে মনে হয় জল যাতে বালুচর ঢেকে যায়,
নদীর স্রোতের গর্জন সে কি তবে শুধু বিভ্রম মনের?
আলো তবে কি কেবল জোনাকীর আলো
যা জাগায় মিথ্যা এক আশা মানুষের মনে?
 
কে জানে কী করে কী হয়?
বাহুতে বাহু রেখে, চোখে রেখে চোখ
কেউ কি ফেরাতে পারে যৌবন অনুরাগ
পুনরায় তার মনে, আগে যার সময় নিয়েছে কেড়ে বুকভরা সাধ?
ধূসর হয়েছে যার চুল, কপালে পড়েছে যার
সময়ের দাগ, সেও বুঝি কখনো হতে চায়
সময়ের পিঠের উপর এক উদ্ধত সওয়ার।
 
সবই বুঝি কল্পনা অথবা সত্যিই
কিছু ঘটে গেছে বাস্তবে পৃথিবীতে।
যেমন হারানো বালক কখনও ফেরে
কুড়ি বছরের পর জননীর কাছে।
শত বছরের রাজ্যপাট একদিন দেখি
নিমেষে ভেঙ্গে পড়ে, চন্দ্রগুপ্তও একদিন
পাটলীপুত্র নগরে প্রবেশ করেছিল জানি।
সেসব হারানো দিনের কথা, কতকাল আগে,
তবু একাত্তর কেন যে জাগতে চায়
কালো অক্ষর হতে ইতিহাস উঠে আসে
কল্পনায় অথবা বাস্তবে? দেখতে পাই পুনরায়
ট্যাংক আর বন্দুক নিয়ে অচেনা বাহিনী এক
ক্রমাগত আসে, তারপর ছাই হয় আগুনে।
নিমেষে ঘুম ভেঙ্গে যায়, সে দিনও ভেঙ্গে গিয়েছিল
ভেঙ্গে গিয়েছিল? অথবা কল্পনা ছিল এক ঘুমন্ত রাতের?
তবে ফুলে লেগেছিল কেন রক্তের দাগ
নারীদের চোখে কেন ব্যাঘ্রেরা বন হতে উঠে এসেছিল?
কল্পনায় অথবা বাস্তবে দেখতে কেন পাই
একাত্তরে ঘুমিয়ে ছিল যারা, মৃত সব সৈনিক
স্বদেশের মাটিতে মার্চ করে পুনরায় বন্দুক হাতে?
প্রতিরোধ যুদ্ধ কি আছে কোনোখানে
নাকি শুধু পশ্চাতে মৃত ইতিহাস পড়ে আছে আজ?
 
 
৩০ ডিসেম্বর, ১৯৯১
 
অনলাইনঃ ১ মে, ২০০৯
 
 
জীবনের নদী শুকিয়ে গিয়েছে জেনে
একদিন মরা খাত দেখেছিলাম বুকের ভিতর।
দেখেছিলাম কতকাল বালুচরে রোদের আগুন
তবে কেন আজ সেইখানে এসেছে জলের প্লাবন?
জলস্রোত বয়ে যায় গর্জন করে, বালুচর ভেসে যায়
নদীতে জেগেছে প্রাণ বহুকাল পরে।
 
এমনো কি হয়? কোনোদিন প্রত্যাশা ছিল কি তবে?
আশা ফুরালেও বুঝি কিছু থাকে। শুধু সেইটুকু,
শুধু ক্ষীণ রেখাটুকু বুঝি ছিল কোনোখানে,
বুকের গভীর গোপনে কিছু আলো ছিল বুঝি তবে?
সেই আলো উজ্জ্বল হয়ে সূর্যের মত জ্বলতে কি চায়?
অথবা কুয়াশাকে মনে হয় জল যাতে বালুচর ঢেকে যায়,
নদীর স্রোতের গর্জন সে কি তবে শুধু বিভ্রম মনের?
আলো তবে কি কেবল জোনাকীর আলো
যা জাগায় মিথ্যা এক আশা মানুষের মনে?
 
কে জানে কী করে কী হয়?
বাহুতে বাহু রেখে, চোখে রেখে চোখ
কেউ কি ফেরাতে পারে যৌবন অনুরাগ
পুনরায় তার মনে, আগে যার সময় নিয়েছে কেড়ে বুকভরা সাধ?
ধূসর হয়েছে যার চুল, কপালে পড়েছে যার
সময়ের দাগ, সেও বুঝি কখনো হতে চায়
সময়ের পিঠের উপর এক উদ্ধত সওয়ার।
 
সবই বুঝি কল্পনা অথবা সত্যিই
কিছু ঘটে গেছে বাস্তবে পৃথিবীতে।
যেমন হারানো বালক কখনও ফেরে
কুড়ি বছরের পর জননীর কাছে।
শত বছরের রাজ্যপাট একদিন দেখি
নিমেষে ভেঙ্গে পড়ে, চন্দ্রগুপ্তও একদিন
পাটলীপুত্র নগরে প্রবেশ করেছিল জানি।
সেসব হারানো দিনের কথা, কতকাল আগে,
তবু একাত্তর কেন যে জাগতে চায়
কালো অক্ষর হতে ইতিহাস উঠে আসে
কল্পনায় অথবা বাস্তবে? দেখতে পাই পুনরায়
ট্যাংক আর বন্দুক নিয়ে অচেনা বাহিনী এক
ক্রমাগত আসে, তারপর ছাই হয় আগুনে।
নিমেষে ঘুম ভেঙ্গে যায়, সে দিনও ভেঙ্গে গিয়েছিল
ভেঙ্গে গিয়েছিল? অথবা কল্পনা ছিল এক ঘুমন্ত রাতের?
তবে ফুলে লেগেছিল কেন রক্তের দাগ
নারীদের চোখে কেন ব্যাঘ্রেরা বন হতে উঠে এসেছিল?
কল্পনায় অথবা বাস্তবে দেখতে কেন পাই
একাত্তরে ঘুমিয়ে ছিল যারা, মৃত সব সৈনিক
স্বদেশের মাটিতে মার্চ করে পুনরায় বন্দুক হাতে?
প্রতিরোধ যুদ্ধ কি আছে কোনোখানে
নাকি শুধু পশ্চাতে মৃত ইতিহাস পড়ে আছে আজ?
 
 
৩০ ডিসেম্বর, ১৯৯১
 
অনলাইনঃ ১ মে, ২০০৯