Banner
শিয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা – শামসুন নাহার (গল্পের কবিতায় রূপান্তর)

লিখেছেনঃ শামসুন নাহার, আপডেটঃ April 28, 2009, 7:45 AM, Hits: 445

এক যে ছিল কুমীর ভায়া
সাতটি ছিল ছেলে।
দিন মানটি কাটে তাদের
কেবল হেসে খেলে।
আসে পাশে যত ছেলে
করে হুটোপুটি।
দুষ্টামী আর নষ্টামীতে,
নেইকো তাদের জুটি।
 
গিন্নি এসে একদিন যে
বললে, “ওগো শুনো।
সারাটা দিন কাটাও হেলায়,
কাজ নেইকো কোনো।
অনেক দিনের পরে আমি
অনেক ভেবেছি
এখন আমি একটা পথের
দিশা পেয়েছি।
 
“আজ কালতো সব ছেলেরাই পড়ে।
আমাদেরই আছে কেবল,
মুখ্‌খু ছেলে ঘরে।
তাই ভাবছি কি,
এবার মোদের ছেলে গুলাক
পাঠশালাতে দি।”
 
শুনে কুমীর খুবই ভাবিত হলো।
ভেবে চিন্তে কয়দিন তার,
এমনি কেটে গেল।
 
অবশেষে গিন্নিকে যে বলে,
“আমরা হলাম জলের প্রাণী,
বাস করছি জলে।
কোথায় পাব গুরু মশাই
কোন দেশেতে গেলে।
 
“সবুর কর, আগুপিছু
সবটা ভেবে নি।
তার পরেত জানতে হবে,
করতে হবে কি।”
 
হেলায় ফেলায় দিন চলে যায়।
শুনল শেষে, এক পড়শীর কাছে,
দূরের কাছের অনেক খবর আছে।
জানতে পেরে কুমীর বৌয়ের কথা
পড়শী যে নাড়ল আপন মাথা।
হলো অনেক কথা।
 
তার পরেতে আসল কথায় এসে
বলল অবশেষে,
“আমরা সবাই এক পাড়াতেই থাকি।
আছে কেবল পরিচয়টাই বাকী।
তবু বলি আমরা হলাম মুখ্‌খু
কুমীর ভাই,
পণ্ডিতদের খবরা-খবর
নেইকো জানা তাই।”
 
কুমীর বলে, “তা বটে তা বটে
এতদিন তো এই কথাটা
আসেনিক ঘটে।
 
“কাজ কি আছে লেখা-পড়ায়,
দিন আমাদের ভালয় কেটে যায়।
আমরা কারো সাতে পাঁচে নাই।
লেখা-পড়ার প্রয়োজন কি ভাই?”
 
হঠাৎ থেমে বলে, “হেথায় কিছু
কিন্তু কথা আছে
ঘরের মাঝে বিবাদ নিয়ে
কেমনে জীবন বাঁচে?”
 
একটু থেমে বলে,
“গিন্নির মোর মেজাজ
বড়ই দড়
জেদ ধরলে হয় না তখন
কথার নড়চড়।”
 
পড়শী যে বলল শেষে,
“বনের ধারে বসত করে শিয়াল।
তার কথাটা আসে নাইকো খেয়াল।
জগৎ জোড়া নাম ডাক তার আছে
সময় করে একদিন ভাই
যাও না তারই কাছে।
 
“পণ্ডিত যে আর কেহ নয়
নামটা যে তার শিয়াল মহাশয়।
মস্ত বড় পণ্ডিত যে
সকল লোকে কয়।”
 
একদিন তাই ছেলেগুলাক নিয়ে
কুমীর ভায়া পৌঁছে গেল
শিয়াল গুরুর পাঠশালাতে
গিয়ে।
শিয়াল গুরু ছানাগুলাকে
দেখে শুনে বলে,
“বিদ্যা আমি দিতে পারি ভাই।
তবে আমার উপযুক্ত দক্ষিণাটা চাই।
কুমীর বলে, কি দান, কি দক্ষিণা?
যাহা আমি কোন মতে দিতে
পারিব না?
এমন কিছু দিতে নারি ভাই,
যে দিবার শক্তি আমার নাই।”
 
শিয়াল মশাই মুচকি হেসে কয়,
“এমন কিছু দানের জিনিস নয়।”
 
কুমীর বলে, “তিন সত্যি ভাই,
ছেলেগুলাক
বিদ্যা দেওয়া চাই।”
 
“সাতটা দিনের পরে
বাচ্চা গুলাক নিয়ে যাব ঘরে।”
 
সাতটা দিনের পরে
কুমীর এসে দেখে
কেউ নাইকো ঘরে।
পাগল কুমীর খঁুজে বেড়ায়
“বাচ্চা গেল কোথা?”
বুক চাপড়ে দেখে হেথা হোথা।
দেখে শেষে সাতটা ছানার হাড়
আর কিছু নাই অবশিষ্ট তার।
 
            অনলাইনঃ ২৮ এপ্রিল, ২০০৯