Banner
রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ড : নারকীয় হত্যাকাণ্ড — কাজী মোহাম্মদ শীশ

লিখেছেনঃ কাজী মোহাম্মদ শীশ, আপডেটঃ July 5, 2010, 12:00 AM, Hits: 527


 

আজ থেকে ষাট বৎসর আগের কথা। দেশ ভাগের পর পাকিস্তানের বয়স তখনও তিন বৎসর হয়নি। রাজশাহী খাপড়া ওয়ার্ডে ঘটলো এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ । দিনটা ছিল ২৪ শে এপ্রিল ১৯৫০ সাল। ঘটনাটি যেমন নিষ্ঠুর-অমানবিক তেমনি হৃদয়-বিদারক।

 

মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে ঘটনার ঐতিহাসিক পটভূমিকাটি আমরা একটু দেখতে পারি। দেশ স্বাধীন করার জন্য বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি এদেশে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছিল খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ বিশেষ করে কৃষক-শ্রমিক, আদিবাসীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী একট্টা হয়েছিল শোষণ-নির্যাতন, অন্যায়-উৎপীড়নের বিরুদ্ধে। মূলত কৃষি প্রধান বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীকে সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়েছিল। সে সময়ের উল্লেখযোগ্য আন্দোলনের মধ্যে রয়েছে দিনাজপুর, রংপুর, খুলনা, ময়মনসিংহ , যশোরসহ বিভিন্ন জেলার বর্গাচাষীদের অধিকার নিয়ে তেভাগা আন্দোলন, ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে বসবাসকারী হাজংদের টঙ্ক ও জমিদারী প্রথার বিরুদ্ধে আদিবাসীদের আন্দোলন ইত্যাদি। দেশ বিভাগের পরও রেল-শ্রমিকদের দাবীর আন্দোলনে ধর্মঘট, মেথরদের প্রতি অমানবিক আচরণ বন্ধ ও তাদের বেতন-ভাতাদি বৃদ্ধির দাবীতে ধাঙ্গর আন্দোলন গড়ে ওঠে। আর এ সকল আন্দোলন গড়ে উঠেছিলো সে সময়ের বামপন্থীদের নেতৃত্বে।

 

পাকিস্তান সরকার শুরু থেকে এ সকল আন্দোলনকে ভারতের দালালদের দ্বারা সৃষ্ট বলে চিহ্নিত করে এবং কঠোর হাতে দমনের ব্যবস্থা নেয়। দমন-উৎপীড়নে আন্দোলনরত অনেককেই প্রাণ দিতে হয়। তৎকালীন পূর্ব বাংলার জেলায় জেলায় কারাগারগুলো ভর্তি হয়ে যায় এ সমস্ত বামপন্থী নেতা-কর্মীদের দিয়ে।

 

জেলখানায় রাজবন্দীদের উপর শারীরিক-মানসিক অত্যাচারের কোন সীমা-পরিসীমা ছিল না। খুব সামান্য কারণে তাদের প্রতি যে ব্যবহার করা হত, নিষেধজ্ঞা জারী করা হত সভ্য সমাজে তা ভাবা যায় না। আর তাই ছোট-বড় যে কোন দাবী আদায়ের জন্য বন্দীদের নিতে হত অনশনের মতো কঠোর ব্যবস্থা। এমনই একটা ঘটনা যা আজকের দিনে আমরা ভাবতেও পারি না। বরিশাল জেল। কয়েকজন রাজবন্দী বসে গান গাইছে। জেলার মান্নান মিঞার আগমন। গেটের উপর হান্টার দিয়ে সজোরে আঘাত। বজ্র হুঙ্কার, ‘জেলখানায় গান গাওয়া যাবে না। ’

 

রাজবন্দীরা প্রতিবাদ জানালো। কিন্তু জেলার তার নির্দেশ তুলে নিল না। ফলে বন্দীরা অনশন শুরু করে। কিছু রাজবন্দীকে তখন সেলে পাঠানো হল। অন্যরা ওয়ার্ডে থেকে গেলেন। একদিন যায়। দু’দিন যায়। বন্দীদের সামনে রাখা হল সব লোভনীয় খাবার। কিন্তু তারা তা ছোঁবেন না। সাত/ আটদিনের মধ্যে অপেক্ষাকৃত দুর্বলেরা শারীরিকভাবে বেশ কাবু হয়ে পড়লেন। দিন দশেক যাওয়ার পর কারো কারো জীবন আশংকাজনক অবস্থায় পড়ল। একদিন ডি সি জেল ভিজিটে এলেন। শেষ পর্যন্ত বন্দীদের দাবী মানা হল।

 

পূর্ব বাংলার জেলে জেলে এভাবেই রাজবন্দীদের মর্যাদা রক্ষা, জেলখানায় তাদের প্রতি অমানবিক আচরণ বন্ধ ও ন্যায্য দাবী দাওয়া আদায়ের প্রচেষ্টা চলতে থাকে। আলোচনা, প্রতিবাদলিপি, স্মারকলিপি প্রভৃতির মাধ্যমে দাবী আদায়ে ব্যর্থ হলে রাজবন্দীরা তাদের শেষ হাতিয়ার অনশন ধর্মঘটকে বেছে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ’৪৮-’৪৯ সাল ব্যাপী ঢাকা জেলে বিভিন্ন মেয়াদে অনশন ধর্মঘট করেন রাজবন্দীরা। আর এই অনশনরত অবস্থাতেই কুষ্টিয়ার শিবেন রায় আত্মাহুতি দেন।

 

 

খাপড়া ওয়ার্ডে গুলি :

 

১৯৫০ সালের শুরুতেই পূর্ব বাংলার বিভিন্ন জেল ও স্থান থেকে বিপুল সংখ্যক রাজবন্দীকে রাজশাহী জেলে আনা হয়। তাদের মধ্যে একটা বিরাট সংখ্যক নেতৃস্থানীয় বন্দীকে রাখা হয় খাপড়া ওয়ার্ডে। খাপড়া ওয়ার্ড হল রাজশাহীর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাজবন্দীদের জন্য নির্দিষ্ট সুরক্ষিত টালির ছাদ বিশিষ্ট বিরাট আট চালা ঘর। এই ঘরে একাধিক জানালা থাকলেও প্রবেশ পথ একটি।

 

অন্যান্য কারাগারের মতো রাজশাহীতেও রাজবন্দীরা তাদের মর্যাদা রক্ষা ও ন্যায় সঙ্গত দাবী নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে এই কারাগারে তাদের দাবীর সাথে আর একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়েছিল। সেখানকার সাধারণ কয়েদীরা নিপীড়ন ও তাদের প্রতি অবিচারের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছিল। রাজবন্দীরাও লক্ষ্য করল বৃটিশ আমলের নানা অত্যাচার পাকিস্তানীরা বলবৎ রেখেছে। তার মধ্যে নিষ্ঠুরতম হল কয়েদীদের দ্বারা ঘানি টানানো। গরুর বদলে মানুষকে (কয়েদী) দিয়ে তেলের ঘানির বিরাট লোহার রড কাঁধে নিয়ে ঘুরানো হয়। দাসযুগের ক্রীতদাসের মতো কয়েদীরা বিরাট ওজনের দীর্ঘ লোহার রড কাঁধে নিয়ে সামনে ঝুঁকে পড়ে প্রায় মাটিতে মিশে গিয়ে ঘুরে ঘুরে ঘানিতে সরষে ভেঙ্গে তেল বের করে। এসব অবিচার-অত্যাচারের সাথে আরও আছে বহু হাজতির বছরের পর বছর জেলে পচতে থাকা। জেল কর্তৃপক্ষ এদের বিষয় বাইরে কোর্টের সাথে যোগাযোগ করে সহজেই অনেকের মামলা গ্রহণ ও বিচার ত্বরান্বিত করতে পারত। কিন্তু তা তারা করত না। এ অবস্থায় রাজবন্দীরা তাদের দাবীর সাথে কয়েদীদের দাবী একত্র করে জেল কর্তৃপক্ষের সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

 

একদিন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব প্রিজস (আই জি পি ) জনাব আমিরুদ্দিন জেল পরিদর্শনে আসলে রাজবন্দীদের মধ্যে থেকে ১২/১৪ জন প্রতিনিধি তার সাথে দেখা করেন। তারা প্রথমে কয়েদীদের সমস্যা ও দাবী নিয়ে আলাপ তুললে আইজিপি রাগান্বিত হয়ে কেবল রাজবন্দীদের দাবী-দাওয়া নিয়ে আলাপ করতে চান। রাজবন্দীদের পক্ষ থেকে জানানো হয় -- কয়েদী ও তারা একই কারাগারে বসবাস করছে। কারাগারের ভিতরে-বাইরে সব স্থানেই মানুষের প্রতি অবিচার-অত্যাচারের বিরুদ্ধে তারা সর্বদা সোচ্চার থাকবেন। আলোচনা চলে। আইজিপি আমলাতান্ত্রিক কায়দায় জানান রাজবন্দীদের দাবী-দাওয়ার প্রতি তার সহানুভূতি আছে। তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তা বিবেচনার জন্য সুপারিশ করেছেন ইত্যাদি। আলোচনায় কোন সুস্পষ্ট ফলাফল হয় না। প্রতিনিধিরা তাদের ওয়ার্ডে ফিরে আসেন।

 

এরপর আই জি পি কারগারে ত্যাগ করার সময় জেল সুপারকে নির্দেশ দিয়ে যান খাপড়া ওয়ার্ডের ১২/১৪জন প্রতিনিধিকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে। জেল সুপার মি. বিল নির্দেশ জারি করল, কয়েকজন রাজবন্দীকে খাপড়া ওয়ার্ড ছেড়ে ১৪ নং সেলে যেতে হবে।  ১৪ নং সেলটি ছিল কনডেম্ন্ড সেল এবং সেখানে যক্ষ্মা ও কুষ্ঠরোগীদের রাখা হত। মৃতদের লাশ পোস্ট মর্টেম করা হত। অন্যদিকে দীর্ঘদিন সংগ্রাম করে কারাগারে একত্রে থাকার (Right of association) অধিকার অর্জন করেছিলেন রাজবন্দীরা। সে অধিকারও খর্ব হওয়ার উপক্রম। খাপড়া ওয়ার্ডে বন্দীদের সভা বসল। দীর্ঘ ২৪ ঘন্টা ধরে চলে আলাপ-আলোচনা। সিদ্ধান্ত হল খাপড়া ওয়ার্ড ছাড়বে না কেউ। কিছুতেই নিজেদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা আনা যাবে না।

 

১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল সম্ভবত ছিল সোমবার। খাপড়া ওয়ার্ডের রাজবন্দীরা সকালের চা-রুটি দিয়ে নাশতা করছে আর তাদের আগের রাতের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। চায়ের পেয়ালা, কেটলি, রুটির থালা এদিক ওদিক রাখা হয়েছে। সকলেই ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত। সভায় সভাপতিত্ব করছেন দীর্ঘদেহী শ্যামল বর্ণের গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ কুষ্টিয়ার কমরেড হানিফ। তিনি বক্তাদের বক্তব্য সংক্ষেপ করতে বললেন এবং জানালেন সময় বেশী নেই।

 

 

এরপরের ঘটনা সেখানকার এক রাজবন্দী প্রয়াত আবদুস শহীদের ভাষায় শুনুন :

 

“কমরেড হানিফের কথা সারা হতে না হতেই খাপড়া ওয়ার্ডের বাইরে বুটের খট খট আওয়াজ শুনতে পেলাম। সভাপতি উঠে দাঁড়াতেই আমরা পিছন ফির্ইে দেখি সুপার মি. বিল, ডাক্তার, দু’জন ডেপুটি জেলর, সুবেদার আকবর খাঁ, কয়েকজন মেট এবং সিপাহীসহ প্রায় পঁচিশ ত্রিশ জন ওয়ার্ডের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। সুপার সরাসরি পূর্ব দিকে হক সাহেবের কাছে গিয়েই বলল, ‘‘Be ready Haque, some of you are to be segregated now’’ (প্রস্তুত হন হক, আপনাদের কয়েকজনকে আলাদা করা হবে)। হক সাহেব সঙ্গে সঙ্গে বললেন,  “Just sit dawn please, we have talks with you about  this matter’’ (দয়া করে একটু বসুন, এ ব্যাপারে আপনার সাথে আমাদের কথা আছে)। আমি তখন ঠিক বিলের পাশেই দাঁড়ান। সে হকের কথা শেষ না হতেই “Shut up the door’’’ ( দরজা বন্ধ কর) বলে চিৎকার করে উঠল। মনে হলো এই আদেশ দেওয়ার পরই তার খেয়াল হল খাপড়ার একটি মাত্র গেট বাইরে থেকে আটকে দিলে তাতে সবাইকে নিয়ে আটকা পড়বে। তাই সে অর্ডার দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত দৌড়ে বেরিয়ে যেতে চাইল। গেটে দাঁড়ান ছিল পাবনার উল্লাপাড়ার বাবর আলী, কুষ্টিয়ার দেলওয়ার, বরিশালের আবু ( রশীদউদ্দীন)। তারা গেটটি প্রায় বন্ধ করে আনছিল, এরই মধ্যে বিল এসে বাবর আলীর হাতে হান্টার দিয়ে সজোরে আঘাত করে তার কবজি ভেঙ্গে দিল এবং বুট দিয়ে প্রচণ্ড ধাক্কা মেরে গেটের বাইরে বেরিয়ে গেল। বিলের ঠিক পশ্চাতে ছিল কমরেড সদানন্দ। সে সুবেদারের পাগড়ি ধরে টান দেওয়ায় সুবেদার পাগড়ি রেখেই বেরিয়ে গেল। এদিকে বিল বেরিয়েই বাঁশিতে হুইসেল দিল। সঙ্গে সঙ্গে প্রায় চল্লিশ জন সিপাই লম্বা বাঁশের লাঠি নিয়ে খাপড়ার বারান্দায় এসে উপস্খিত হল। ইতিমধ্যে আমরা ভিতর দিয়ে গেট আটকিয়ে দেওয়ায় ওদের কেউ ভিতরে ঢুকতে পারল না। কিন্তু ওরা সমস্ত জানালার গরাদের ফাঁক দিয়ে লাঠি ছুঁড়ে মারতে লাগল। উন্মত্ত আক্রোশে সিপাহীরা গরাদের উপর লাঠি দ্বারা প্রচণ্ড আঘাত করতে লাগল, আমরাও আমাদের লোহার খাটগুলি এগিয়ে নিয়ে জানালার কপাটগুলি আটকাতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু ওদের লাঠির সামনে এগোতে পারছিলাম না ।  ...... এক মেট আমার হাতে এমন বাড়ি মারল যে আমার ডান হাতের তর্জনীটি কেটে সামান্য একটু চামড়ার সঙ্গে ঝুলে রইল। আমি দৌড়ে ভিতরে গেলে কমরেড সত্যেন সরকার আমার আঙুল বেঁধে দিল। ...... আমরা আমাদের কাঁসার থালা, ঘটি, বাটি, শিশি, দোয়াত যাবতীয় জিনিস জানালার ফাঁকা দিয়ে ওদের দিকে ছুঁড়তে লাগলাম। ...... মনে আছে খাপড়ার দক্ষিণ দিকে আমি একটি দোয়াত নিয়ে বাইরে সজোরে নিক্ষেপ করছি এমন সময় ফায়ার শব্দে খাপড়া যেন বিদীর্ণ হল। চকিত দৃষ্টিতে দেখলাম খাপড়ার প্রায় পঞ্চাশটি জানালায় বন্দুকের নল লাগিয়ে সিপাহীরা দাঁড়িয়ে আছে। আমি তৎক্ষণাৎ উপুড় হয়ে বালিশের নীচে মাথা গোঁজার সঙ্গে সঙ্গে রাইফেলের গর্জনে খাপড়ার ভিত যেন ফেটে চৌচির হতে চাইল। গেটের দিকে একটু চোখ পড়তেই দেখলাম ফিনকি দিয়ে রক্ত একেবারে ছাদ পর্যন্ত উঠছে। আমার মাথা একটি সাপোর্টিং ওয়ালের আড়ালে বালিশের নীচে গোঁজা ছিল, পা-কনুই বাইরে ছিল। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম হাঁটু দু’ফাঁক করে þিপ্লন্টার ঢুকে গেছে। বালিশের নীচ থেকে দেখলাম পাশেই কমরেড হানিফের বাহুর উপরিভাগ ছিঁড়ে গেছে। এবং সেখান থেকে অঝোরে রক্ত ঝরছে। একটু পরেই কমরেড হানিফকে মৃত্যর কোলে ঢলে পড়তে দেখি। যেন দেখলাম আমার অদূরেই কুষ্টিয়ার কমরেড নন্দ সান্যাল রক্তাক্ত শরীরে মেঝের উপর লুটিয়ে পড়ছে। আমার হুশ হারাবার পূর্বে যতটুকু মনে আছে দেখলাম খাপড়া ওয়ার্ডে রক্তের স্রোত বইছে। আমার শরীর বুক পর্যন্ত রক্তে ডুবন্ত। এরপর আমার কিছু মনে নেই। (কারা স্মৃতি -- আবদুস শহীদ, পৃষ্ঠা ১০০ - ১০৩)

 

খাপড়া ওয়ার্ডের এই অমানবিক নির্যাতনে যে সাতজন বীর শহীদ হয়েছিলেন তাঁরা হলেন, বিজল সেন (রাজশাহী), হানিফ শেখ (কুষ্টিয়া), দেলওয়ার (কুষ্টিয়া), আনোয়ার (খুলনা), সুখেন ভট্টাচার্য (ময়মনসিংহ), সুধীন ধর (রংপুর), কম্পরাম সিং (দিনাজপুর)।

 

এছাড়াও গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন বেশ কিছু রাজবন্দী। কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গু ও বিকলাঙ্গ হয়ে যান। যে ২৯ জন আহত অবস্থায় কোনক্রমে বেঁচে যান তাঁরা হলেন, আবদুস শহীদ, রশীদউদ্দীন (আবু), সদানন্দ ঘোষ, পরিতোষ দাশ গুপ্ত, সন্তোষ দাশ গুপ্ত, আবদুল হক, হীরেন সেন, অনিমেষ ভট্টাচার্য , প্রিয়ব্রত দাস, নন্দ সান্যাল, সত্যেন সরকার , গরিবুল্লা সরদার, ফটিক রায়, সত্য ভট্টাচার্য, শ্যামাপদ সেন, ডোমারাম সিং, ভুজেন পালিত, কালী সরকার, বটুক দত্ত, আমিনুল ইসলাম, বাবর আলী, পবিত্র প্রসাদ রায়, গণেশ সরকার, নাসির, মনসুর হাবিব, নূরন্নবী চৌধুরী, সিতাংশু মৈত্র , মো: ইলিয়াস এবং অনন্তদেব।

 

এদের মধ্যে কারা আজও বেঁচে আছেন দেশবাসী তা জানে না। রাজশাহী খাপড়া ওয়ার্ডের শহীদ ও আহত এসব বীরদের সংগ্রামমুখর জীবনের কথা আমদের জানা একান্ত আবশ্যক। তাদের সহকর্মী-পরিচিত জন তো বটেই দেশের লেখক-গবেষকগণও পারেন আত্মত্যাগী দেশপ্রেমিক এই মানুষগুলোর পরিচয় আমাদের কাছে তুলে ধরতে।

 

(তথ্যসূত্র; কারা স্মৃতি -- আবদুস শহীদ)

(নিবন্ধটি দৈনিক সংবাদ-এ ১১ বৈশাখ ১৪১৭, ২৪ এপ্রিল ২০১০ তারিখে প্রকাশিত হয়। লাঞ্ছিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির সংগ্রামে আত্মদান করে যারা আমাদের অগ্রগমনের পথ নির্মাণ করে গেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের প্রয়োজন বোধ থেকে লেখকের অনুমতিক্রমে এটি বঙ্গরাষ্ট্র-এ প্রকাশ করা হল। -- বঙ্গরাষ্ট্র)

অনলাইন : ৫ জুলাই, ২০১০  
 


 

সাম্প্রতিক পোষ্টসমূহ