লিখেছেনঃ আখতারুজ্জামান আজাদ, আপডেটঃ July 3, 2026, 12:00 AM, Hits: 8
ঠিক চলে যাবো — আখতারুজ্জামান আজাদ
যেদিন মনে করবো চলে যাবার সময় হয়েছে
ঠিক চলে যাবো
একটিবারের জন্যও ফিরে তাকাবো না
তাছাড়া যেতে যখন হবেই
সবাইকে পিছনে ফেলেই যেতে চাই
যেনো তোমাদের মাঝে
তার সাথে আরও কিছুদিন
ধুধু কাশবনে, পাহাড়ের পাদদেশে
নদীর পাড়ে সমুদ্রের ঢেউ-এ
মনে মন রেখে বিমূর্ত তৃষ্ণা
ছড়িয়ে চলে যাবো
যখন মনে করবো চলে যাবো!
-----
জীবন্ত জীবনালেখ্য — আখতারুজ্জামান আজাদ
মেঘের মতো জীবনে
তুমি এলে অন্ধকারের মতো
মৃত জলোচ্ছ্বাসে ভর করে!
বিকলাঙ্গ কবির বন্ধ্যা কবিতায়
তুমি এলে, যখন তুমি পক্ষাঘাতে
কোনো এক প্রশস্ত বুকে নিশ্চল অনড়!
জীর্ণশীর্ণ অনুভূতির উপঢৌকন নিয়ে
তুমি এলে যখন তোমার শতধা ছিন্ন অস্তিত্বের
শেকড়, শিখরে দাঁড়িয়ে মাথা উঁচু করে!
তোমার শুভাগমনে শুভঙ্করের সুনিপুণ
সুলেখায় পরাভূত মনের উদগ্রীব পরাজয়ে
আজকের এই অপরিণত ভোর সাক্ষী হয়ে থাক
এক গভীর চিরসত্য জীবন্ত জীবনালেখ্য'র!
-----
নির্মোহ নির্বাণ — আখতারুজ্জামান আজাদ
তোমার বুক জুড়ে শব্দের কোলাহল
কোনো ভাষা নেই সে বুকে
কথায় কথায় কথার ফুলঝুরিতে
তোমার জুড়ি নেই কিন্তু ভাষা নেই সেখানেও
কালো অক্ষরের শব্দজটে কথায়
কথায় কথার ছলে কাগুজে গল্প হয়
ভাষা থাকে না, থাকে না আশা
থাকে মুক্তির নামে গনগনে চুল্লীতে
দহনের অগ্নিদাহ। কিন্তু ভাষা নেই সেখানেও
আমার শব্দহীন ভাষার আর্তনাদে ভালোবাসা আছে
আছে অভিমানী মুক্তির স্বেচ্ছা বন্দিত্বে নির্মোহ নির্বাণ!
-----
অন্তর্ধান — আখতারুজ্জামান আজাদ
একটি শব্দও কথা বলছে না আজ
সব ভাষা আজ নিশ্চল নিরুত্তাপ
ভুলগুলো সব ফ্যাকাসে জীবনের
নির্ভুল প্রতিচ্ছবি আর মুছে যাওয়া উত্তাপ!
বিন্দু বিন্দু অনুশোচনার ঘামে সিন্ধুসম অনুতাপ!
তাই আজ কোনো শব্দ কথা বলছে না
সব ভাষা ভেসে গেছে অবনত দহনে
সর্বহারা প্রায়শ্চিত্তের সরব অন্তর্ধানে!
-----
আমি চাই — আখতারুজ্জামান আজাদ
আমি চাই তুমি আমাকে ভুল বোঝ
সশব্দে ভাসিয়ে দাও খরস্রোতা নদীর
বুভুক্ষু বুকে আমার শেষ আহ্বান।
আমি চাই তুমি আমাকে
অযাচিত সুখের অবাঞ্ছিত স্পর্শে
অচ্ছুৎ আনন্দের মতো
পরিত্যক্ত করো,
তুমি তো জানো
অনাহুত আগন্তুক আমি,
আমাকে বিদীর্ণ করো
খণ্ডিত ভালোবাসার
বিচূর্ণ বিস্মৃতিতে
আমিযে বিস্তীর্ণ ভাগাড়ের বিনিদ্র মোহনা!
-----
অভিবাদন হে কবি — আখতারুজ্জামান আজাদ
শতাব্দীর সহস্র পঙক্তির মুণ্ডপাত করেও একটা কবিতা লেখা হয়নি
ভালোবাসা ও প্রেমের ফেনিল জলরাশিতে ডুবন্ত ডুবুরির মতো কবিতার ক্ষেতে কবিতা ফলাতে পারিনি!
বিরহ ও বিচ্ছেদের কল্পিত গল্প সাজিয়েও কবিতায় কাব্য সৃষ্টি করতে পারিনি!
অভাব অনটনের কৃত্রিম সংকটও মনে একবিন্দু কবিতা ‘কন্সিভ’ করেনি!
এলোমেলো জীবন যাপন, একাকীত্বের মুখোশে মুখ লুকিয়েও কবিতার কেশাগ্র ছুঁতে পারিনি!
অসংখ্য নারী ও নারীত্বের ধ্বজাধারী পতিতার অপাংক্তেয় আলিঙ্গনেও কবিত্ব আসেনি মনে!
জন্ম ও মৃত্যুর কথিত ডিলারের রক্তচক্ষু চ্যালেঞ্জ করেও
কবিতার জনক হতে পারিনি!
কিন্তু তুমি একি লিখলে ছেলেখেলার মতো অনায়াসে একের পর এক ইর্ষায় জ্বালানো পদ্য ও গদ্যের এক প্রশান্তিময় মুগ্ধতায় বিমুগ্ধ করা আমার কাঙ্ক্ষিত সব কবিতা!
অভিবাদন হে কবি অবনী পরে রেখে গেলে
এক জীবন্ত সীমান্ত রেখা!
-----